ঢাকা, ১১ জানুয়ারি ২০২৬: দেশব্যাপী চলমান তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস)। শৈত্যপ্রবাহে নারী, শিশু, বয়স্ক এবং গৃহহীনসহ ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস ও শীতের দুর্ভোগ লাঘবের উদ্দেশ্যে দেশের সকল জেলাতে প্রায় ৩৫ হাজার কম্বল বিতরণ চলমান রেখেছে সংস্থাটি।
ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (IFRC), ড্যানিশ রেড ক্রস, কাতার রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, সুইস রেড ক্রস, ব্রিটিশ রেড ক্রস, আমেরিকান রেড ক্রস এবং কমিক রিলিফ-এর সহায়তায় রেড ক্রিসেন্টের ৬৮টি ইউনিটে (৬৪ জেলা ও ৪টি সিটি ইউনিট ব্রাঞ্চ) এই মানবিক কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
রেড ক্রিসেন্টের প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকরা নিজ নিজ এলাকার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের তালিকা তৈরি করে এই সহায়তা সরাসরি তাদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন। এই কার্যক্রম পরিচালনায় সরাসরি অন্ততপক্ষে পাঁচ শতাধিক রেড ক্রিসেন্ট ভলান্টিয়ার কাজ করছে।
চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার জুড়ানপুরের বাসিন্দা ও ভ্যানচালক আব্দুর রব (৫৪) বলেন, ‘কদিন ধইরে যে জাড় হচ্চে, বাড়িত্তি বেরানু যাচ্চে না। আমাগের ভালো শীতির পুষাকও নেই, রাতিরবেলা মেলা কষ্ট হয়। ভ্যান না চালালি ইনকাম নেই, বাজারও নেই। শীতির পুষাক কিনবো ক্যারাম কইরে? ইরা (রেড ক্রিসেন্ট) ডাইকে নিয়ে কম্বল দিল, এখন ঘুমাতি এট্টু আরাম পাচ্চি।’
বিডিআরসিএস এর সেক্রেটারি জেনারেল ড. কবির মো. আশরাফ আলম এনডিসি বলেন, ‘দেশব্যাপী কম্বল বিতরণের এই উদ্যোগ মূলত আমাদের একটি মানবিক কার্যক্রম। এই ৩৫ হাজারের সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে। যেকোনো দুর্যোগের মতো শৈত্যপ্রবাহ মোকাবিলাতেও আমরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকতে চাই, যেমনটা আমরা সবসময়ে ছিলাম।’
কম্বল বিতরণের পাশাপাশি, শৈত্যপ্রবাহ প্রবণ এলাকাগুলোতে শীতের স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলা, নিপা (NIPAH) ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে জেলাগুলোর জনসমাগমস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সেবাকেন্দ্রে মাইকিং ও সচেতনতামূলক বার্তার মাধ্যমে আগাম সতর্কতা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের প্রচারণার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নানান সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করছে।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি যে কোনো মানবিক সংকটে নিরপেক্ষতা ও স্বেচ্ছাসেবার নীতি অনুসরণ করে আর্তমানবতার সেবায় কাজ করে যেতে বদ্ধপরিকর।







