ঢাকা, ১৯ অক্টোবর ২০২৬: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ৫০,০০০ ডেঙ্গু এনএস১ (NS1) টেস্ট কিট, ৭০,০০০ ব্যাগ নরমাল স্যালাইন, ১৫,০০০ ব্যাগ বেবি স্যালাইন এবং স্যালাইন সেট হস্তান্তর করেছে। এ ছাড়া, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ৫,০০০ ব্যাগ নরমাল স্যালাইন প্রদান করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশনের (আইএফআরসি) ডিসাস্টার রেসপন্স ইমার্জেন্সি ফান্ড (ডিআরইএফ) এবং অন্যান্য সহযোগীদের অর্থায়নে বিডিআরসিএসের চলমান ডেঙ্গু রেসপন্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা প্রদান করা হয়।
সোমবার সকালে রাজধানীতে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদর দপ্তরে এই হস্তান্তর অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। বিডিআরসিএসের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আবদুস সালাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশীদ এবং হোলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. নাসিরউদ্দীন পনীরের হাতে এই চিকিৎসা সামগ্রী তুলে দেন।
বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব তীব্র আকার ধারণ করায় এই সহায়তা জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত দেশজুড়ে ১,১২,৪০০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ৩৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা স্বাস্থ্য খাত এবং সাধারণ মানুষের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে।
অনুষ্ঠানে বিডিআরসিএসের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আবদুস সালাম বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিডিআরসিএস জাতীয় পর্যায়ে ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ, মাঠপর্যায়ে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং অসচ্ছল পরিবারগুলোকে সহায়তা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ডেঙ্গুর ক্রমবর্ধমান প্রভাব পরিবার ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করছে; তাই সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ, সঠিক চিকিৎসা এবং ধারাবাহিক সামাজিক সচেতনতা এই প্রাদুর্ভাবের প্রভাব কমাতে অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের এই উদ্যোগ কেবল চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আমরা রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছি, স্বাস্থ্যসেবা সহায়তাকে শক্তিশালী করছি এবং হাসপাতালে ভর্তি, আয় বন্ধ হওয়া ও চিকিৎসা খরচ বাড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত অসচ্ছল পরিবারগুলোকে নগদ সহায়তা প্রদান করছি। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও এর মানবিক প্রভাব কমাতে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ, সর্বসাধারণ এবং সহযোগী সংস্থাগুলোর যৌথ ও ধারাবাহিক প্রয়াস প্রয়োজন।”
এসব সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সারা দেশে প্রায় ৫,০০,০০০ মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বিডিআরসিএস। সংস্থাটির প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকদের দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক লিফলেট বিতরণ, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম, ডিজিটাল যোগাযোগ ও কমিউনিটি পর্যায়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাঠে কাজ করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে চলতি বছরের শুরুর দিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করার আগেই বিডিআরসিএস সরকারকে ৪০,০০০ ডেঙ্গু টেস্ট কিট প্রদান করেছিল।
অনুষ্ঠানে আইএফআরসির বাংলাদেশ হেড অফ ডেলিগেশন, সেভাল গুজেলকিলিনচ (Seval Guzelkilinc), বিডিআরসিএসের মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান; উপ-মহাসচিব মো. এহছান-ই-এলাহী; পরিচালক (স্বাস্থ্য ও ফান্ড রেইজিং – অতিরিক্ত) অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এস. এম. হুমায়ুন কবীর (অব.); পরিচালক (এইচআর ও প্রশাসন) এএসএম মামুনুর রহমান খলিলী; হোলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. কে. এম. মজিবুল হক; হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ-সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।







