২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে ব্যাপক হারে বাস্তুচ্যুত মানুষের বাংলাদেশে আগমনের পর থেকে Bangladesh Red Crescent Society(BDRCS), কক্সবাজারে পপুলেশন মুভমেন্ট অপারেশন (PMO) বাস্তবায়ন করে আসছে।
বর্তমানে International Federation of Red Cross and Red Crescent Societies (IFRC) এবং রেড ক্রস রেড ক্রিসেন্ট মুভমেন্টের আটটি অংশীদার সংস্থার সহায়তায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার জনগোষ্ঠীর জন্য এসব মানবিক কার্যক্রমসিমুহ পরিচালনা করছে।
যার মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার জনগোষ্ঠীর জীবনরক্ষাকারী মৌলিক মানবিক সহায়তা নিশ্চিত হচ্ছে। একই সাধথ তাদের তথ্য সেবার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং তাদের মর্যাদা ও রেজিলিয়েন্স (সহনশীলতা) বৃদ্ধির কাজও চলমান রয়েছে ।
বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরের ৩৩টি ক্যাম্পে প্রায় ১১.৯ লাখ রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত মানুষ বসবাস করছে। এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৭৮ শতাংশ নারী ও শিশু এবং ১২ শতাংশ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি। ২০২৪ সাল থেকে নতুন করে ১,৪৯,৭৬৯ জন নিবন্ধিত আগমনকারী এই জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ফলে মানবিক সহায়তার চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে একই সময়ে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে আসায় মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
ক্যাম্প নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। ক্যাম্প এলাকায় সংগঠিত অপরাধ, মানবপাচার, অপহরণ ও বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার ঝুঁকি রয়েছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং এর অংশীদাররা মানবিক সহায়তা কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।
এপ্রিল ২০২৬ মাসে স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ১১ হাজারেরও বেশি মানুষকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃস্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য এবং অসংক্রামক রোগ (NCD) সংক্রান্ত সেবা প্রদান করা হয়েছে। একই সময়ে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (WASH) কার্যক্রমের আওতায় ১ লাখ ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি সহায়তা পেয়েছে। এছাড়া নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও মর্যাদা রক্ষায় ৪,৭৯৭টি মেন্সট্রুয়াল (ব্যক্তিগত) স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা (MHM) কিট বিতরণ করা হয়েছে।
দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও প্রস্তুতি (DRM) কার্যক্রমের মাধ্যমে ১৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা উন্নয়নের আওতায় আনা হয়েছে। আশ্রয় সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে ১,৩৫০ জন ট্রানজিশনাল শেল্টার এবং আশ্রয় মেরামত সহায়তা পেয়েছে, যা তাদের নিরাপদ বসবাস নিশ্চিত করতে সহায়ক হয়েছে।
জীবিকা উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় ১,৬০৪ জন দক্ষতা উন্নয়ন ও আয়বর্ধক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। অন্যদিকে সুরক্ষা, জেন্ডার ও অন্তর্ভুক্তি (PGI) কার্যক্রমের মাধ্যমে ৭,৬৫৬ জন ব্যক্তি সুরক্ষা, মর্যাদা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবার আওতায় এসেছে, যা তাদের নিরাপত্তা ও সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
চলমান মানবিক সংকট, নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ এবং সীমিত অর্থায়নের মধ্যেও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং রেড ক্রস রেড ক্রিসেন্ট মুভমেন্টের অংশীদাররা বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, মর্যাদা রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
#PMO #BDRCS #IFRC #RedCrossRedCrescent Operation #RohingyaResponse #HumanityInAction #CoxsBazar
Open Book







