২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতা ও নিপীড়নের ফলে বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। তাদের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস), ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (IFRC) এবং বিভিন্ন পার্টনার ন্যাশনাল সোসাইটির (PNS) সহায়তায় পপুলেশন মুভমেন্ট অপারেশন (PMO) কার্যক্রম শুরু করে।
বর্তমানে বিডিআরসিএস, IFRC এবং ৯টি PNS-এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় পপুলেশন মুভমেন্ট অপারেশন (PMO) মাধ্যমে কক্সবাজারের ক্যাম্প ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি জনগোষ্ঠী কক্সবাজারের ৩৩টি ক্যাম্প এবং ভাসান চরে আশ্রয় নিয়েছে। ক্যাম্পে বসবাসরত এ জনগোষ্ঠীর খাদ্য, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও জীবিকা—সবকিছুই মানবিক সহায়তার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় চাহিদাভিত্তিক প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাকে আরও টেকসই ও সমন্বিত করা এখন সময়ের দাবি।
ক্যাম্প এলাকায় সশস্ত্র সহিংসতা, গোষ্ঠীগত অপরাধ, অপহরণ, মাদক চোরাচালান ও সীমান্ত অস্থিতিশীলতা- সমগ্র মানবিক কার্যক্রমকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। এ প্রেক্ষাপটে মানবিক কর্মীদের ঝুঁকি এড়ানো, কম প্রোফাইল বজায় রাখা এবং জরুরি নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করার নির্দেশনা জোরদার করা হয়েছে।
২০২৫ সালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তিনটি তহবিল কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি বিদ্যমান-
- যৌথ রেসপন্স পরিকল্পনার (JRP) ঘাটতি: ৩২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার
- নতুন আগমনের জন্য আবেদন ঘাটতি: ১৮.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার
- IFRC Appeal: ৭৩% তহবিল ঘাটতি
তহবিল ঘাটতি, নিরাপত্তা সংকট এবং দীর্ঘায়িত মানবিক পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে বর্তমান প্রেক্ষাপট অত্যন্ত জটিল। তবে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জীবনরক্ষাকারী সেবা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় ও আলোচনার মাধ্যমে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তহবিল সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
দীর্ঘায়িত এ সংকটের বাস্তবতায় মানবিক সহায়তা আরও দক্ষ, লক্ষ্যভিত্তিক ও স্থায়িত্বশীলভাবে অব্যাহত রাখা অপরিহার্য—একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় কমিউনিটির মানুষের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সহনশীলতা নিশ্চিত করাও অন্যতম প্রধান কাজ।
সম্পূর্ণ রিপোর্ট
PMO Operational Update Oct’2025







